লাইফস্টাইল: পহেলা বৈশাখের উৎসবে দিনভর ঘোরাঘুরির আয়োজন প্রায় শেষ। অন্যান্য দিন ঘরে বসে থাকলেও উৎসবের এই দিনে ঘরে বসে থাকা চলবে না মোটেও। বৈশাখী মেলায় ঘোরা আর মজার সব বাঙালি খাবার খেয়ে দিন পার করাই থাকে সব তরুণ-তরুণীর উদ্দেশ্য। ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে প্রবীনরাও বাদ যান সে ঘোরাঘুরিতে। কিন্তু নতুন পোশাকে গ্রীষ্মের খরতাপে নিজেকে সুস্থ রাখার বিষয়টি খুবই জরুরি। অনভ্যাসে হঠাৎ করে গরমের মাঝে ঘোরার সময় আপনাকে অবশ্যই প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গের ব্যাপারে লক্ষ্য রাখতে হবে। যেমন-
আরামদায়ক পোশাক
সুতি হলেও শাড়িতে বা থ্রি-পিসে সবাই স্বস্তি পায় না। নিয়মিত যে পোশাকে আপনি অভ্যস্ত বৈশাখী সাজেও তেমন স্টাইলের পোশাক পরতে পারেন। বৈশাখী উৎসবকে আরও বেশি আনন্দের করতে স্বস্তির পোশাকটি বেছে নেয়া জরুরি।
স্বস্তিদায়ক গহনা
শাড়ির সঙ্গে বা থ্রি-পিসের সঙ্গে মিলিয়ে জড়োয়া গহনা পরে বের হয়েছেন পহেলা বৈশাখের প্রভাতী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। পরিকল্পনা আছে সারাদিন বাইরে কাটাবেন। গলা ভর্তি মালা বা কান ঝুলে পড়া দুলের ভার একটু সময় পরেই আপনার মধ্যে অস্বস্তির জন্ম দিতে পারে। তাই পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে আরামদায় বা পাতলা গহনা বেছে নিতে পারেন।
ব্যাগ
এখন বড় ব্যাগের ফ্যাশন চলছে। শাড়ির সঙ্গে ম্যাচিং করে ব্যাগ নির্বাচন করুন। কালো, লাল, চকলেট যেকোনো রঙের ব্যাগ বেছে নিতে পারেন। বৈশাখী শাড়ির সঙ্গে যেকোনো ব্যাগ কিন্তু মানিয়ে যায়। গরমের এই দিনে যাঁরা দিনভর বাইরে ঘোরার পরিকল্পনা করছেন তারা অব্শ্যই কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস ব্যাগে রাখতে পারেন। যেমন- ছোট ছাতা, পানির বোতল, হাল্কা মেকআপ, রুমাল বা টিস্যু, মোবাইল, ছোট আয়না ইত্যাদি। ঘোরার ফাঁকে নিজের সাজটা ঠিক আছে কি না দেখে নিতে পারেন। তা হলে দিনশেষেও আপনি থাকবেন সাজ-পোশাকে অনন্য।
স্যালাইন পানি
সারাদিন গরমে যখন ঘুরবেন তখন ঘাম ঝরবেই। তাই বলে অতিরিক্ত ঘেমে দুর্বল হয়ে যাওয়া উচিত হবে না। দিনের সবটুকু ঘোরা আপনার জন্য আনন্দময় করতে চাঙ্গা থাকা জরুরি। সেজন্য ব্যাগের মধ্যে রাখা বোতলের পানিতে একটি স্যালাইন গুলে নিতে পারেন। আবার ডাবের পানিও রাখতে পারেন। মাঝে মাঝে তৃষ্ণা মেটাতে দুয়েক চুমুক আপনাকে রাখবে একদমই সতেজ।
জুতা
বৈশাখী মেলায় সারাদিন নিশ্চয়ই রিকশায় ঘুরবেন না, পায়ে হেঁটেই চলতে হবে বহু পথ। তাই বেছে নিতে পারেন আরামদায়ক সুন্দর একজোড়া জুতা। সারাদিন হাটাহাটিতে আপনার পায়ে ফোসকাও পড়বে না আবার পায়েও ব্যথা হবে না। এ ক্ষেত্রে বেছে নিতে পারেন একদমই ফাট জুতা। আপনার দেহের ব্যালান্স ঠিক রেখে পায়ের যতœ নিশ্চিত করতে ফাট জুতার তুলনা নেই।
Related Pots
লাইফস্টাইল: অনেকের ধারণা ডিম খেলে ওজন বেড়ে যায়, রক্তে চর্বির পরিমাণ বেড়ে যায়, কেউ আবার হৃদরোগকে ভয় পেয়েও ডিম খাওয়া বিরত থাকেন। কিন্তু ডিম কি আসলেই এগুলো বাড়ায়? কিন্তু চমকপ্রদ তথ্য হচ্ছে, চিকিৎসকেরা বলেন, সকালে নাস্তায় একটি ডিম মাসে প্রায় ৩ পাউনড পর্যন্ত ওজন কমাতে পারে! আসুন, তা হলে জেনে নেয়া যাক ডিমের ১২টি উপকারিতা, যেগুলোর কারণে রোজ ডিম খাওয়া উচিত আপনার!
১) ডিমের সবচেয়ে বড় গুণ এটি ওজন কমাতে সাহায্য করে। ব্রেকফাস্টে রোজ একটি ডিম মানে সারাদিন আপনার ক্ষুধা কম হবে, খাওয়া হবে কম। গবেষণায় দেখা যায় শরীর থেকে দিনে প্রায় ৪০০ ক্যালোরি কমাতে পারে সকালে একটি ডিম খাওয়া। তার মানে মাসে ওজন কমার পরিমাণ প্রায় তিন পাউন্ড। সমীক্ষা বলছে, ৬৫% বডি ওয়েট, ১৬% বডি ফ্যাট, ৩৪% কোমরে জমে থাকা মেদের পরিমাণ কমাতে পারে ডিম!
২) শরীর সুস্থ রাখার আরও একটি জরুরি উপাদান কোলাইন। কোলাইনের ঘাটতি ঘটলে অনেক সময় কার্ডিওভাসকুলার, লিভারের অসুখ বা নিউরোলজিক্যাল ডিজ-অর্ডার দেখা দিতে পারে। একটি ডিমে প্রায় ৩০০ মাইক্রোগ্রাম কোলাইন থাকে। যা কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেম, স্নায়ু, যকৃৎ ও মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণে রাখে।
৩) প্রত্যেক নারীর শরীরে রোজ কমপক্ষে ৫০ গ্রাম প্রোটিনের দরকার। একটি ডিমে থাকে ৭০-৮৫ ক্যালোরি বা ৬.৫ গ্রাম প্রোটিন। সুতরাং চাঙা থাকতে রোজ ডিম খেতেই পারেন।
৪)ছোট্টো একটা ডিম হাজারো ভিটামিনে ভরা। এর ভিটামিন বি ১২ আপনি যা খাচ্ছেন সেই খাবারকে এনার্জি বা শক্তিতে রূপান্তরিত করতে সাহায্য করে।
৫) এর মধ্যে আছে ভিটামিন এ। যা দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে। ডিমের কেরোটিনয়েড, ল্যুটেন ও জিয়েক্সেনথিন বয়সকালের চোখের অসুখ ম্যাকুলার ডিজেনারেশন হওয়ার সম্ভাবনা কমায়। এই একই উপাদান চোখের ছানি কমাতেও সাহায্য করে।
৬) কেবলমাত্র ডিমেই রয়েছে ভিটামিন ডি। যা পেশীর ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
৭) আছে ভিটামিন ই। এটি কোষ এবং ত্বকে উৎপন্ন ফ্রি র্যাডিক্যাল নষ্ট করে দেয়। এবং স্কিন ক্যানসার প্রতিরোধ করে।
৮)প্রোটিন শরীর গঠন করে। আর প্রোটিন তৈরিতে সাহায্য করে অ্যামিনো অ্যাসিড। একুশ ধরনের অ্যামিনো অ্যাসিড এই কাজে প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু আমাদের শরীর অতি প্রয়োজনীয় নয়টি অ্যামিনো অ্যাসিড তৈরি করতে পারে না। তার জন্য আমাদের প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট নিতে হয়। খাবারের মধ্যে এই প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট হল ডিম। যা ঝটপট শরীরে প্রোটিন উৎপাদন করতে পারে।
৯) ডিমে আছে আয়রন, জিঙ্ক, ফসফরাস। মেনস্ট্রুয়েশনের জন্য অনেক সময় অ্যানিমিয়া দেখা দেয়। শরীর তাড়াতাড়ি কান্ত হয়ে পড়ে। ডিমের মধ্যে থাকা আয়রন এই ঘাটতি মেটাতে পারে সহজেই। জিঙ্ক শরীরের ইমিউন সিস্টেম বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। আর ফসফরাস হাড় ও দাঁত মজবুত করে।
১০) নখ ভেঙে যাচ্ছে চটপট? নাকি চুলের স্বাস্থ্য একেবারেই বেহাল? চোখ বন্ধ করে রোজ ডিম খেয়ে যান। ডিমের মধ্যে থাকা সালফার ম্যাজিকের মতো নখ আর চুলের মান উন্নত করবে ।
১১) ২০০৩ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় একটি সমীক্ষায় দেখিয়েছে অ্যাডোলেশন পিরিয়ডে বা পরবর্তী কালে সপ্তাহে ৬টি করে ডিম নিয়মিত খেলে প্রায় ৪৪% ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব৷ সঙ্গে এটাও জানিয়েছে, ডিম হৃৎপিন্ডে রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। ফলে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক হওয়ার সম্ভাবনাও অনেকটাই কম থাকে।
১২) নতুন সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, ডিম কোলেস্টেরল বাড়ায় না। দিনে দুটো ডিম শরীরের লিপিড প্রোফাইলে কোনও প্রভাব ফেলে না। বরং ডিম রক্তে লোহিতকণিকা তৈরি করে।
Related Pots
লাইফস্টাইল: বাংলা বছরের প্রথম দিন বরণ করে নিতে এদেশের মানুষের প্রস্তুতির শেষ নেই। মেয়েরা সাদা শাড়ি-লাল পাড়ে নিজেকে কতটা আকর্ষণীয় করে তোলা যায় সে প্রস্তুতি শুরু করেছে। পাঞ্জাবিতে নিজেদের ভিন্নভাবে ফুটিয়ে তুলতে ছেলেরাও পিছিয়ে নেই। সাদা-লাল পাড়ের শাড়ির ঐতিহ্য ধরে রেখে বর্ষবরণের পোশাকে এখন এসেছে ভিন্নতা। লাল-সাদার পাশাপাশি বৈশাখ আয়োজনে স্থান করে নিয়েছে আরও কিছু রং।
“প্রতিটি নারীর জন্য শাড়িই হল সব থেকে সুন্দর পোশাক। তবে শাড়ি ছাড়াও এখন অনেকেই ফতুয়া, কুর্তি বা সিঙ্গেল কামিজ বেছে নিচ্ছেন বৈশাখের পোশাক হিসেবে। তা ছাড়া সালোয়ার-কামিজ তো আছেই।” বলেন শাহীন।
এ বছরের বর্ষ বরণে পোশাকের ধরন নিয়ে দেশীয় ফ্যাশন ঘর ‘সাদা-কালো’র কর্ণধার তাহসীনা শাহীন বলেন, “বৈশাখ হল সাম্প্রদায়িকতা বিহীন একটি উৎসব। এটি বাঙালির একমাত্র প্রাণের উৎসব যেখানে ধর্ম, বর্ণ ভেদাভেদ ছাড়াই সবাই একসঙ্গে জড়ো হয় নতুন একটি বছর বরণ করে নিতে। আর এই দিন বরণ করতে সাদা-লাল রং-ই বেছে নিয়ে থাকে সবাই।”
আর সবার চাহিদার কথা মাথায় রেখে দেশীয় ফ্যাশন ঘরগুলোও সেই অনুযায়ী পোশাকের পসরা সাজিয়েছে তাদের বিক্রয়কেন্দ্রগুলোতে। শুধু নামিদামী ফ্যাশন হাউজগুলোই নয়, ছোটখাটো দোকানগুলোও বৈশাখকে কেন্দ্র করে তাদের আয়োজন সাজিয়েছেন।
শাহিন বলেন, “প্রতিবারই বসন্তের সাজের সঙ্গে মাটির গয়না বেশি পরে থাকেন তরুণীরা। তবে আমার এবার মনে হচ্ছে কাপড়ের গয়না এবার বেশি দেখা যেতে পারে। আর সুতার গয়না, ঝুমকা এগুলো তো থাকছেই। তা ছাড়া লাল-সাদার পাশাপাশি এবারের বৈশাখে সবুজ, কমলা, হলুদ ইত্যাদি উজ্জ্বল রংও দেখা যাবে।”
বৈশাখের তীব্র রোদ আর গরমের বিষয়টি মাথায় রেখে ফ্যাশন ঘরগুলো পোশাক তৈরির ক্ষেত্রে সুতি কাপড়ই বেশি প্রাধান্য দিয়েছে। সুতি ছাড়া লিলেন, ক্রেপ জরজেট, সফট জরজেট, হাফ সিল্ক ইত্যাদি কাপড়ও ব্যবহার করা হয়েছে পোশাকে।
শাহীন আরো জানান, এবারের বৈশাখ বরণের পোশাকে সব থেকে বেশি চলছে বিভিন্ন ধরনের প্রিন্টের পোশাক। ব্লক প্রিন্ট, স্ক্রিন প্রিন্ট, বাটিক, সাধারণ প্রিন্ট ইত্যাদি প্রিন্টের জনপ্রিয়তা এবার বেশি। তা ছাড়া অ্যাপলিক, হাতের কাজ ইত্যাদি তো আছেই।
বৈশাখের সাজ
নতুন বাংলা বছরের প্রথম দিনে চাই মনেরমতো সাজ আর মাথায় গোঁজা বেলিফুলের মালা। তীব্র গরম আর ঘামের কথা ভেবে অনেকেই চিন্তিত থাকেন এই দিনের সাজপোশাক নিয়ে। কারণ সাজার পর যদি ঘেমে গিয়ে মেইকআপ নষ্ট হয়ে যায় তা হলে উৎসবের আনন্দ পুরোটাই মাটি। তাই এ দিনের সাজ হওয়া চাই হালকা। এ বিষয়ে পরামর্শ দিলেন অ্যারোমা থেরাপিস্ট শিবানী দে।
তিনি বলেন বলেন, “বাংলা নববর্ষ স্বাগত জানাতে প্রাণের এই মেলায় লাল-সাদার প্রাধান্য দিয়ে চলে সাজের পালা। ভিড় জমে ছোট-বড় সব শপিং সেন্টারগুলোতেই। পান্তা ইলিশ, লাল-সাদা শাড়ি ও পাঞ্জাবিতে সবাই নিজেকে নতুন করে সাজিয়ে তোলে। শাড়ি আর পছন্দের পোশাকের সঙ্গে নিজেকে আরও সুন্দর করে তুলতে কিছুটা সাজগোজ তো চাই। ”
দিনের মেইকআপ
শিবানী দে জানান, বৈশাখের দিনের এবং সন্ধ্যার মেইকআপ হবে ভিন্ন। তিনি বলেন, “এ উৎসবের সাজ-পোশাকে থাকে বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। সকালে রোদ থাকায় সাজটা হতে হবে স্নিগ্ধ। গাঢ় মেকআপ এ সময় একেবারেই বেমানান। আর গরমের কারণে সাজ হতে হবে ওয়াটার প্রুফ। যাতে ঘামে সাজ নষ্ট না হয়ে যায়।” দিনের সাজের ক্ষেত্রে হালকা মেইকআপ বেছে নেয়ার পরামর্শ দেন শিবানী দে।
মুখ ভালোভাবে পরিষ্কার করে চাইলে বরফ ঘষে নেওয়া যেতে পারে। এরপর অবশ্যই সানস্ক্রিন মেখে নিতে হবে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে অল্প পরিমাণ ম্যাট ফাউন্ডেশন নিয়ে পুরো মুখে ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। এর ওপরে সানস্ক্রিনযুক্ত ফেইস পাউডার দিয়ে নিতে হবে, এতে ফাউন্ডেশন ভালোভাবে সেট হবে। পোশাকের রংয়ের সঙ্গে মানিয়ে আইশ্যাডো লাগিয়ে নিতে হবে। দিনের সাজে ম্যাট শ্যাডো ব্যবহার করলে ভালো দেখাবে। আর লক্ষ রাখতে হবে যেন শ্যাডোর প্রতিটি শেইড ভালোভাবে ব্লেন্ড হয়ে যায়।
এদিনে কিছুটা টেনে মোটা করে কাজল বা আইলাইনার ব্যবহার করা যেতে পারে। বর্তমানে পোশাকের রংয়ের সঙ্গে মিল রেখে বিভিন্ন রংয়ের কাজল পেনসিল বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। চাইলে বিভিন্ন রংয়ের কাজলও ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে কাজলটি যেন বেমানান না লাগে। সবশেষে হালকা করে মাসকারা দিয়ে চোখের সাজ শেষ করতে হবে। আর অবশ্যই ওয়াটার প্রুফ মাসকারা ও আইলাইনার ব্যবহার করতে হবে।
লিপস্টিক লাগানোর আগে প্রথমেই একই রংয়ের লিপ লাইনার দিয়ে ঠোঁট সুন্দর করে এঁকে নিয়ে লিপস্টিক দিয়ে ভরাট করে নিতে হবে। চুলের স্টাইল নির্ভর করবে পোশাকের ওপর। শাড়ির সঙ্গে পুরো চুল একপাশে রেখে খোঁপা করে তাতে বেশি করে বেলিফুলের মালা জড়িয়ে নেওয়া যেতে পারে। যাদের লম্বা চুল তারা লম্বা বেণি করে বেলি ফুলের মালা পেঁচিয়ে নিতে পারে। যাদের চুল ছোট তারা কিপ দিয়ে চুল আটকিয়ে ফুল লাগাতে পারেন।
সালোয়ার-কামিজের সঙ্গে চুল স্ট্রেইট বা কার্ল করে ছেড়ে রাখা যেতে পারে। আবার চাইলে খোঁপা, বেণি বা পনিটেইল ইত্যাদি স্টাইলও করা যেতে পারে। সঙ্গে যোগ করা যায় ফুলের মালা। কপালে বড় টিপ, হাত ভর্তি কাচের চুড়ি, গলায় পুঁতির মালা, অক্সিডাইজ, মুক্তার গয়না আর পায়ে হালকা পায়েল পরলেই বৈশাখি সাজ পূর্ণতা পাবে।
সন্ধ্যার মেইকআপ
সন্ধ্যায় মেইকআপের শুরুতে মুখে একটু বরফ ঘষে নিতে হবে। ফাউন্ডেশন দিয়ে মুখ, গলা, ঘাড়ে ভালো করে ব্ল্যান্ড করে মিশিয়ে নিয়ে মুখের বাড়তি খুঁত ঢাকতে কনসিলার ব্যবহার করা যেতে পারে। এরপর ফেইসপাউডার দিয়ে ফাউন্ডেশন বসিয়ে নিতে হবে।
পোশাকের রংয়ের সঙ্গে মানিয়ে চোখে আইশ্যাডো লাগাতে হবে। রাতের সাজে চোখে গাঢ় মেইকআপ বেশি মানানসই। পোশাকের রংয়ে বা সম্পূর্ণ ভিন্ন রঙ কন্ট্রাস্ট আই শ্যাডোর সঙ্গে নীল, সবুজ, সোনালী বা রূপালি যেকোনো রংয়ের আইলাইনার ব্যবহার করা যেতে পারে। পাপড়িতে ঘন করে কয়েক কোট মাশকারা লাগিয়ে নেওয়া যাবে। চোখের মেইকআপ গাঢ় হলে ন্যাচারাল, বাদামি, পিচ অথবা গোলাপি রংয়ের লিপস্টিক লাগালে ভালো লাগবে।
Related Pots
লাইফস্টাইল: ডায়েট শেষ হওয়ার পরই চর্ব-চোষ্য নয়, বলাই বাহুল্য৷ প্রথম দিন কেবল টাটকা কমলালেবুর রস৷ দ্বিতীয় দিন ভেজ কিয়ার স্যুপ৷ তৃতীয় দিন থেকে গাঢ় ভেজিটেবল স্যুপ দেওয়া যাবে৷ চার দিনের মাথায় সেমি সলিড খাবারর শুরু করে আস্তে আস্তে নর্মাল লো ক্যালোরির সুষম ডায়েটে ফিরতে হবে৷ সঙ্গে থাকবে ব্যায়ামের সঙ্গত৷ ডায়েট ও তার আগে-পরের খাওয়া ও ব্যায়ামের নিয়ম ঠিক করে মানতে পারলে ওজন কমবে হু-হু করে৷ কিন্ত্ত কিছুদিন পর হাল ছেড়ে দিলে আবার ফেরত আসবে সব৷ কাজেই লো-ক্যালোরির সুষম খাবার ও ব্যায়ামকে চির জীবনের মতো আপনার সঙ্গী করে নিন৷
লেমন ডিটক্স ডায়েটের প্রাণ-ভোমরা হলো লেবু৷ লেবুর যে গুণের অন্ত নেই, তা সবারই জানা৷ এতে ফাইবার, প্রোটিন, ভিটামিন সি-এ-বি, ক্যালসিয়াম, জিঙ্ক, আয়রন ইত্যাদি নানাবিধ উপাদান আছে৷ আছে সামান্য কার্বোহাইড্রেট ও সুগারও৷
অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে এক গুণপনা সুবিখ্যাত৷ কাজেই শরীরে কুলোলে এ কাজের কাজই করবে৷ বড় টেবিল চামচের দু-চামচ লেবুর রস ও আখের রস বা পিওর ম্যাপল সিরাপে এক চিমটে লাল লবনের গুঁড়া আর গ্লাস ভর্তি জল মেশালেই ডায়েট তৈরি৷ খিদে পেলে বা প্রতি দু-ঘণ্টা অন্তর এক গ্লাস করে খান৷ দিনে ৬-১২ গ্লাস৷ প্রতিবার টাটকা বানিয়ে৷ আগামি ১০ দিন, এই হবে আপনার খাদ্য ও পানীয়৷ এর পাশাপাশি দিনে দু-বার করে সল্ট-ওয়াটার নিন৷
খিদেয় প্রাণ ওষ্ঠাগত হবে? নাও হতে পারে৷ কারণ এই ডায়েট শুরু করার আগে বেশ কিছু দিন ধরে খাবারের পরিমাণ একটু একটু করে কমিয়ে শরীরকে তার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হবে৷ তারপর যখন বোঝা যাবে কম খেয়েও বিশেষ অসুবিধা হচ্ছে না, তখন শুরু হবে এই ডায়েট৷ বুঝতেই পারছেন কম খেতে শুরু করার পর থেকে ওজন যে একটু একটু করে কমতে শুরু করবে, তার পালে জোরদার হাওয়া লাগবে৷ তবে হ্যাঁ, খাবারের পরিমাণ যত কমাবেন, পাল্লা দিয়ে তার গুণপনা বাড়াতে হবে৷ অভিজ্ঞ ডায়াটিশিয়ানের পরামর্শ ছাড়া যা সম্ভব নয়৷ সঙ্গে নিতে হবে ডাক্তারের পরামর্শও৷ ডায়েটের এই ব্যাপক রদবদলে আপনার কোনও ক্ষতি হতে পারে কি না তা খতিয়ে দেখবেন তিনি৷ প্রয়োজনে সাপলিমেন্টের ব্যবস্থাও করবেন৷
সতর্ক বার্তা
কম বয়স ও ভালো স্বাস্থ্য না থাকলে এই ডায়েট করবেন না৷ডায়েট শুরুর আগে ও পরে প্রোটিনসমৃদ্ধ ডায়েট একটু-আধটু মডিফাই করে নিতে পারেন৷ এক-আধ কাপ ডাবল টোনড দুধ বা এই দুধে বানানো দইয়ের ঘোল, এক বাটি চিকেন, কিয়ার স্যুপ বা পালং-গাজর-টমেটো জ্যুস, কি এক-আধটা শশা খেলে যদি ১০ দিন কাটানো সহজ হয়, করে দেখতে পারেন৷ডায়েট চলাকালীন রোদে ঘুরলে বা ভারি ব্যায়াম করলে সমস্যা হতে পারে৷কোনো কষ্ট হলে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নিন ও তিনি বললে ডায়েট বন্ধ করে দিন৷
Related Pots
লাইফস্টাইল: মাছ কিনতে গিয়ে ঠকে আসেন নি বা দোকানী পচা মাছ গছিয়ে দেয়নি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল। যতই ফরমালিন বা রঙ দেওয়া হোক না কেন, টাটকা ও ওষুধ মুক্ত মাছ চিনে নেয়ার জন্য কৌশল আছে। এই ৯টি কৌশল প্রয়োগ করতে পারলে জীবনে আর কখনো মাছ কিনে ঠকতে হবে না আপনাকে।
১. টাটকা মাছের চোখ সব সময় স্বচ্ছ হবে। একদম ঝকঝকে চোখ হবে, দেখলে মনে হবে মাছটি জীবন্ত। সময়ের সাথে সাথে এই চোখ ঘোলাটে, মৃত হয়ে আসে। যত সময় যায়, চোখ তত নিষ্প্রাণ। ফরমালিনে মাছের মাংস পচে না ঠিকই, কিন্তু চোখের জীবন্ত ভাব নষ্ট হওয়া ঠেকানো যায় না। চোখ দেখলেই চিনে নিতে পারবেন তাজা মাছ।
২. টাটকা মাছ কখনোও শক্ত হবে না, আবার নরমও হবে না। তাজা মাছ হবে “বাউন্সি”। যদি আঙুল দিয়ে চাপ দিলে দেখেন যে মাছ একদম শক্ত, বুঝবেন যে সেটা ফ্রিজে রাখা ছিল। আর যদি আঙুল দিলেই দেবে যায় ভেতরে, বুঝবেন মাছের বয়স হয়েছে। তাজা মাছে আপনি আঙুল দিয়ে চাপ দিলে দেবে যাবে। কিন্তু আঙুল সরিয়ে নিলেই জায়গাটা ঠিক হয়ে যাবে।
৩. মাছের কানকো দেখাটা টাটকা মাছ চেনার একটা ভালো উপায়। যদিও মাছের কানকোতে এখন রঙ মিশিয়ে রাখেন দোকানিরা। তাই শুধু কানকো দেখে মাছ কিনবেন না। জেনে রাখুন, টাটকা মাছের কানকো হবে তাজা রক্তের রঙের এবং পিচ্ছিল, স্লাইমি ভাব থাকবে।
৪. চোখ আর কানকো দেখার পর মাছের শরীর দেখুন। মাছের শরীর কি চকচকে আর উজ্জ্বল রূপালি রঙের? বিশেষ করে সুপারশপের মাছে দেখবেন চকচকে রূপালি রঙের বদলে হলদে, লালচে বা অন্য রঙের আভা দেখা যায় মাছের গায়ে। এতে বুঝে নেবেন যে মাছটি অতি অবশ্যই অনেকদিনের পুরনো। তাজা মাছ চকচক করবে, সময় যাওয়ার সাথে সাথে চকচকে ভাব একেবারেই ম্লান হয়ে যাবে তা সে যতই ফরমালিন দেওয়া হোক না কেন।
৫. তাজা মাছের গন্ধ হবে পানির মতো, সামুদ্রিক মাছ হলে সমুদ্রের মতো। শসার গন্ধের সাথেও মিল পেতে পারেন। যে মাছ থেকে বাজে গন্ধ আসবে, সেটা নিঃসন্দেহে তাজা মাছ নয়।
৬. চিংড়ি মাছের ক্ষেত্রে কিন্তু পদ্ধতি ভিন্ন। যদি চিংড়ি মাছের খোসা শক্ত আর ক্রিসপি থাকে, তা হলে মাছ তাজা। যদি খোসা নরম আর নেতিয়ে পড়া হয়, তা হলে মাছ ভালো নয়।
৭. সুপার শপের কেটে রাখা মাছ বা ফিশ ফিলে কিনতে চান? কাটা মাছের রঙ লক্ষ্য করুন। টাটকা মাছের মাংস হবে উজ্জ্বল রঙের। রঙ যত বিবর্ণ, মাছ তত পচা।
৮. বাজারে কেটে ভাগা দেওয়া মাছ কিনবেন? ভালো করে লক্ষ্য করুন মাছের আশপাশে কোনো সাদা বা ফ্যাকাশে রঙের জল আছে কিনা। যদি থাকে, বুঝবেন মাছ ভালো নয়। টাটকা মাছের আশপাশে স্বচ্ছ জল থাকবে।
৯. জিয়ল মাছ যেমন শিং, মাগুর, শোল ইত্যাদি কিনতে গেলেও সাবধান। আজকাল দোকানিরা মরা জিয়ল মাছকেও টাটকা বলে ধরিয়ে দেন। জিয়ল মাছ যদি ট্রের মধ্যে ছটফট করে তা হলে সেই মাছ কিনুন। আগে থেকে বের করে ট্রে-তে সাজিয়ে রাখা মাছ নয়।- ওয়েবসাইট
Related Pots
লাইফস্টাইল: বিয়ে করলে নাকি দীর্ঘ জীবন বেঁচে থাকা যায়। মৃত্যু ঝুঁকিও অনেকাংশে কমে যায়। অবশ্যই বিবাহিত জীবনে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সুসম্পর্ক থাকতে হবে। সম্প্রতি মার্কিন গবেষকরা নতুন এক গবেষণার পর এমন তথ্যই জানালেন। নতুন এই গবেষণাটি সেরেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলাইনার ডিউক ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও গবেষক ইলিন সিয়েগলার ও তার সহযোগী গবেষকরা।
ইলিন বলছেন, মাঝবয়সে একজন সঙ্গী বা সঙ্গিনী থাকলে সুরক্ষিত থাকার সম্ভাবনাই বেশি। এ বয়সে একাকিত্ব মানুষকে ক্রমেই আশা ও ভবিষ্যতের প্রতি আস্থাহীন করে তোলে। একজন মানুষের সার্বিক জীবনধারণ প্রক্রিয়ার ওপর বিয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিবাহিত জীবনে যাঁরা সুখী তারা স্বাভাবিকভাবেই স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস মেনে চলেন। ৪০ বছর বয়সের পর একাকী থাকা, সঙ্গী বা সঙ্গিনীকে হারিয়ে নতুন করে বিয়ে না করা অসময়ে মৃত্যুর ঝুঁকিকে বাড়িয়ে দেয়।
এমনকি ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত পৌঁছানোটাও দুষ্কর হয়ে যায়। বিবাহিত যে ব্যক্তিদের ধূমপান বা অ্যালকোহলের বদভ্যাস রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও অবিবাহিতদের তুলনায় মাঝবয়সে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা ২ দশমিক ৩ গুণ বেশি। তাদের বন্ধু-বান্ধবের সংখ্যাটাও বেশি ও স্বামী-স্ত্রী যতœ নিতে পরস্পরকে উৎসাহিত করেন। অন্যদিকে মাঝবয়সের ঠিক আগে বিবাহবিচ্ছেদের মতো ঘটনা ঘটলে ও একাকী থাকার সিদ্ধান্ত নিলে তা আয়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কারণ তখন একাকিত্ব গ্রাস করে। মানুষ বিষণœতায় ভুগতে শুরু করে।- ওয়েবসাইট।
Related Pots
ডেস্ক রিপোর্টঃ সুইডেনের
গোটেনবার্গ শহরের একটি রেস্তোরাঁয়
গুলিতে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। তবে নিহতের সংখ্যা
সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি দেশটির কর্তৃপক্ষ।
বুধবারের এই হামলাটি সংঘবদ্ধ
চক্রের সঙ্গে সম্পর্কিত বলে মনে করছে পুলিশ। দেশটির
দ্বিতীয় বৃহত্তম
শহরটিতে হওয়া এই হামলায়
সন্ত্রাসসম্পর্কিত কোনোকিছুর
ইঙ্গিত পাওয়া যায় নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের
মুখপাত্র উল্লা ব্রেহেম বলেন, এটি কোনোভাবে
সন্ত্রাসের সঙ্গে সম্পর্কিত এমন কিছুই পাওয়া যায়নি।”
এ ঘটনায় স্বয়ংক্রিয়
অস্ত্রের ব্যবহার
হয়েছে এবং বেশ কয়েকজনের
মৃত্যু হয়েছে বলে পুলিশ জানালেও ঠিক কতজন নিহত হয়েছেন তা উল্লেখ করেনি।
তবে নিহতের
সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে
আইন-শৃঙ্খলা
রক্ষাকারী বাহিনী।
ব্রেহেম
জানান, গোটেনবার্গের
একটি দ্বীপ হিসিঙ্গেনে এই ঘটনা ঘটেছে।
ওখানে সংঘবদ্ধচক্রগুলোর মধ্যে অনেক সহিংসতার ঘটনা ঘটে। আর এ ক্ষেত্রেও
এমনটি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি আরো বলেন, “এখানে সুনির্দিষ্টভাবে পুলিশ অভিযান চালিয়েছে
কারণ এখানে সংঘবদ্ধ অপরাধের
ঘটনা ঘটে। অতীতেও এখানে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

